সেই ধারাবাহিকতায় চারদিনে বিভিন্ন ধরনের জ্বালানিবাহী পাঁচটি জাহাজ এসে পৌঁছেছে। এছাড়া আরো একটি আজ দেশে পৌঁছার কথা রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) মেরিন বিভাগের হালনাগাদ তথ্যে গতকাল এ চিত্র উঠে এসেছে। জাহাজগুলোতে ডিজেল, এলএনজি ও এলপিজি আমদানি করেছে সরকার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।
চবক সূত্রে জানা গেছে, ৩১ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিলের মধ্যে পাঁচটি এনার্জি ভেসেল বন্দরে অবস্থান করছে। ভারত থেকে আসা ‘গ্যাস চ্যালেঞ্জার’ নামের একটি জাহাটি সি-সাইড এজেন্টের মাধ্যমে মঙ্গলবার বন্দরে এসে পৌঁছেছে। জাহাজটি তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বহন করছে।
অন্যদিকে ইউনাইটেড শিপিং এজেন্ট পরিচালিত প্রিমা ডায়মন্ড জাহাজটি ইন্দোনেশিয়া থেকে বৃহস্পতিবার বন্দরে পৌঁছলেও এখনো বন্দর ‘প্যাসেজ’-এ অপেক্ষমাণ রয়েছে। জাহাজটিতে রয়েছে ইথিলিন। একই এজেন্টের আরেকটি জাহাজ ‘গ্যাস জার্নি’ চীন থেকে বাংলাদেশে এলপিজি নিয়ে আসবে। জাহাজটির সম্ভাব্য আগমনের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে আজ।
ইউনিগ্লোবাল এজেন্টের তত্ত্বাবধানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা সেলসিয়াস গ্যালাপাগোস জাহাজটি বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে আগমন করলেও বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের কুতুবদিয়া চ্যানেল এলাকায় অবস্থান করছে। জাহাজটিতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রয়েছে।
এছাড়া প্রাইড নামের এজেন্টের অধীনে সিঙ্গাপুর থেকে আগত ‘ইউয়ান জিং হে’ নামের একটি জাহাজ গতকাল চট্টগ্রাম বন্দরের ডিওজে-৬ অবস্থানে নোঙর করেছে। একই এজেন্টের আরেকটি জাহাজ ‘শান গ্যাং ফা জিন’ মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে পৌঁছেছে, যা চট্টগ্রাম বন্দরের ‘প্যাসেজ’-এ অবস্থান করছে। উভয় জাহাজেই গ্যাস অয়েল বা ডিজেল অয়েল আমদানি করা হয়েছে।
বন্দরসংশ্লিষ্টরা জানান, জ্বালানি পণ্যের মধ্যে এলপিজি, এলএনজি, ইথিলিন ও গ্যাস অয়েল দেশের শিল্প, বিদ্যুৎ এবং বাণিজ্য খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব জাহাজের দ্রুত খালাস নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম বন্দরের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। হরমুজ প্রণালি নিয়ে জাহাজ চলাচল অনিয়মিত হওয়ায় বাংলাদেশেও সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে আগের ক্রয় করাসহ বর্তমানে ক্রয় করা জ্বালানিবাহী জাহাজগুলোর বিষয়ে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তদারকি করছে। এসব জাহাজে আসা জ্বালানি দ্রুত খালাসের মাধ্যমে দেশের চলমান জ্বালানি সংকট নিরসনে চট্টগ্রাম বন্দর কাজ করছে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।